শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ন
ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা জামালপুরের বকশিগঞ্জের নয়নাভিরাম গারো পাহাড়ের বনাঞ্চল। এই বনাঞ্চলে মোট বনভূমির পরিমাণ ২৭০০ একর। এই বিশাল বনাঞ্চলে ২০ বছর আগেও দেখা যেতো বাঘ, ভাল্লুক, বানর, হাতি, হরিণ ছাড়াও অজস্র পশু পাখি। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখন এসব অতীত। এই বন এখন প্রাণী শূন্য। কালে ভদ্রে ক্ষণিকের জন্য আগমন ঘটে ভারতীয় বন্য হাতির।
বকশিগঞ্জের কামালপুর ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা দিঘলাকোনা এলাকার বাসিন্দা পুদি মারাক বলেন- এর আগে এই বনে বাঘ, ভাল্লুক, হাতি, শুয়োর, বানরসহ বহু প্রাণী ছিল। এহন বিশ বছর ধইরে কিচ্ছুই নাই। পুরো বন খুঁজলে একটা ইঁদুরও ঠিকমতো পাওয়া যাবে না।
পাহাড়ি এলাকা সাতানিপাড়ার বাসিন্দা নপু মারাক নপ্তরীও বলেন- আগে আমরা বন্য প্রাণীর ভয়ে সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতাম না। এখন এত বড় একটা বনে কিছুই নেই। আগে সবকিছু আছিল। এটা প্রকৃতির জন্য হুমকি স্বরূপ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবাধে বৃক্ষ নিধন ও বন ধ্বংসের কারণে এই বনাঞ্চলে দেখা দিয়েছে বন্যপ্রাণীর খাদ্য সংকট। অবৈধভাবে বন দখলের কারণে আবাসের জায়গা না থাকায় বন্য পশু পাখিরা পাড়ি জমিয়েছে অন্যত্র।
দিঘলাকোনা এলাকার বাসিন্দা জয় দাংগো বলেন- “মা বাবার কাছ থেকে শুনছি এখানে সিংহও ছিলো। কিন্তু বন ধ্বংসের কারণে, অবাধে বৃক্ষ নিধনের কারণে বর্তমানে কোনো পশু পাখি নেই। প্রাণী শূন্য এই বিশাল বন।
লাওচাপড়া এলাকার বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, এই বনে পশু পাখির কোনো খাবার নাই। থাকার কোনো জায়গা নাই। পশু পাখি কিভাবে থাকবে? কি খাবে? এর জন্য পশু পাখি আমাদের লাওচাপড়া বন বিভাগে নাই। সব পশু পাখি ভারতে চলে গেছে।